সৌদি আরবে কোন কাজের ভিসার চাহিদা সবচেয়ে বেশি ২০২৫-২০২৬: সম্পূর্ণ তথ্য ও গাইড
সৌদি আরব বাংলাদেশী প্রবাসীদের কাছে একটি জনপ্রিয় কর্মক্ষেত্র। প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় সৌদিতে পাড়ি জমান। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সৌদি আরবে কোন কাজের ভিসার চাহিদা সবচেয়ে বেশি? ভিশন ২০৩০ প্রকল্পের আওতায় সৌদি সরকার অর্থনীতিতে বিশাল পরিবর্তন এনেছে। ফলে কিছু সেক্টরে চাহিদা বেড়েছে আবার কিছু সেক্টরে কমেছে। বর্তমানে ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা জানবো কোন কাজের ভিসায় সবচেয়ে বেশি সুযোগ রয়েছে, বেতন কেমন এবং যোগ্যতা কী লাগবে।বর্তমান চাকরির বাজার: ভিশন ২০৩০ এর প্রভাব
সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ প্রকল্পটি দেশের অর্থনীতিকে তেল নির্ভরতা থেকে মুক্ত করে বৈচিত্র্যময় করার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। এই প্রকল্পের ফলে বিভিন্ন সেক্টরে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, সৌদির বেসরকারি খাত দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বেকারত্বের হার কমে ৩ শতাংশে নেমে এসেছে। এর অর্থ হলো দক্ষ কর্মীদের জন্য প্রচুর সুযোগ রয়েছে। তবে, সব সেক্টরে সমান চাহিদা নেই। কিছু কাজের ক্ষেত্রে ব্যাপক চাহিদা থাকলেও কনস্ট্রাকশন সেক্টরে কিছুটা মন্দা দেখা যাচ্ছে। তাই সঠিক তথ্য জেনে ভিসা প্রসেসিং করা অত্যন্ত জরুরি।সৌদি আরবে সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন ভিসা ক্যাটাগরি ২০২৫-২০২৬
১. স্বাস্থ্যসেবা সেক্টর (Healthcare Sector)
বর্তমানে সৌদি আরবে স্বাস্থ্যসেবা সেক্টরে সবচেয়ে বেশি চাহিদা। ভিশন ২০৩০ এর আওতায় সৌদি সরকার স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিশাল বিনিয়োগ করছে। নতুন হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং মেডিকেল রিসার্চ সেন্টার তৈরি হচ্ছে। এছাড়া টেলিমেডিসিন এবং ডিজিটাল হেলথ সলিউশনের চাহিদা বেড়েছে।চাহিদাসম্পন্ন পদসমূহ:
- ডাক্তার ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক: সকল বিভাগে বিশেষত কার্ডিওলজি, অর্থোপেডিক্স, পেডিয়াট্রিক্স
- নার্স: রেজিস্টার্ড নার্স এবং স্পেশালাইজড নার্স
- মেডিকেল টেকনিশিয়ান: রেডিওলজি, ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান
- ফার্মাসিস্ট: হাসপাতাল ও কমিউনিটি ফার্মেসিতে
- হেলথ এডমিনিস্ট্রেটর: হাসপাতাল ম্যানেজমেন্ট
বেতন কাঠামো:
ডাক্তারদের মাসিক বেতন ১৫,০০০ থেকে ৩৫,০০০ রিয়াল পর্যন্ত হতে পারে। নার্সদের বেতন ৪,০০০ থেকে ১২,০০০ রিয়াল। মেডিকেল টেকনিশিয়ানদের বেতন ৩,৫০০ থেকে ৮,০০০ রিয়াল।যোগ্যতা:
স্বাস্থ্যসেবা খাতে কাজ করতে হলে সৌদি কমিশন ফর হেলথ স্পেশালিটিস (SCFHS) থেকে লাইসেন্স প্রয়োজন। প্রাসঙ্গিক ডিগ্রি, অভিজ্ঞতা এবং সার্টিফিকেশন থাকতে হবে।২. তথ্য প্রযুক্তি ও টেকনোলজি সেক্টর (IT & Technology)
সৌদি আরবের ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন প্রকল্পের কারণে আইটি সেক্টরে বিশাল চাহিদা রয়েছে। ২০২৫ সালে আইটি খরচ ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্মার্ট সিটি প্রকল্প যেমন NEOM, দ্য লাইন এবং কিডিয়া এই সেক্টরে হাজার হাজার চাকরির সুযোগ তৈরি করছে।চাহিদাসম্পন্ন পদসমূহ:
- সফটওয়্যার ডেভেলপার: ফ্রন্ট-এন্ড, বাক-এন্ড এবং ফুল-স্ট্যাক ডেভেলপার
- সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট: নেটওয়ার্ক এবং ডেটা সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ
- ডেটা সায়েন্টিস্ট ও এনালিস্ট: বিগ ডেটা এবং AI/ML এক্সপার্ট
- ক্লাউড কম্পিউটিং স্পেশালিস্ট: AWS, Azure, Google Cloud
- আইটি প্রজেক্ট ম্যানেজার: টেক প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট
বেতন কাঠামো:
সফটওয়্যার ডেভেলপারদের মাসিক বেতন ৮,০০০ থেকে ২৫,০০০ রিয়াল। সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্টদের বেতন ১৮,০০০ থেকে ৩০,০০০ রিয়াল। এআই এবং মেশিন লার্নিং বিশেষজ্ঞদের বার্ষিক বেতন ২,৪৬,০০০ রিয়াল পর্যন্ত হতে পারে।যোগ্যতা:
কম্পিউটার সায়েন্স বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ডিগ্রি, প্রোগ্রামিং ভাষায় দক্ষতা এবং সংশ্লিষ্ট প্রজেক্টে অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।৩. ড্রাইভিং ভিসা (Driver Jobs)
সৌদি আরবে ড্রাইভিং ভিসার চাহিদা এখনও অত্যন্ত বেশি। বিশেষ করে বাংলাদেশীদের কাছে এই ভিসা খুবই জনপ্রিয়। কারণ এতে পরিশ্রম তুলনামূলকভাবে কম এবং বেতন ভালো। আরও পড়ুনড্রাইভিং ভিসার ধরন:
- প্রাইভেট কার ড্রাইভার: ব্যক্তিগত গাড়ি চালানো
- কোম্পানি ড্রাইভার: কোম্পানির গাড়ি চালানো
- ট্রাক ড্রাইভার: মালবাহী ট্রাক চালানো
- বাস ড্রাইভার: যাত্রীবাহী বাস চালানো
- ডেলিভারি ড্রাইভার: ই-কমার্স ডেলিভারি
বেতন কাঠামো:
প্রাইভেট কার ড্রাইভারদের মাসিক বেতন ১,২০০ থেকে ১,৪০০ রিয়াল। কোম্পানি ড্রাইভারদের বেতন ১,২০০ থেকে ১,৫০০ রিয়াল। ট্রাক ড্রাইভারদের বেতন ১,৮০০ থেকে ২,৫০০ রিয়াল পর্যন্ত হতে পারে।যোগ্যতা:
বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং ভালো ড্রাইভিং রেকর্ড থাকতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে সৌদি ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য টেস্ট দিতে হতে পারে।৪. কনস্ট্রাকশন ও ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টর (Construction & Engineering)
যদিও ২০২৫ সালে কনস্ট্রাকশন সেক্টরে কিছুটা মন্দা দেখা যাচ্ছে, তবুও মেগা প্রজেক্টগুলোর কারণে এই খাতে এখনও বিশাল চাহিদা রয়েছে। NEOM, রেড সি প্রজেক্ট এবং কিডিয়ার মতো প্রকল্পগুলো হাজার হাজার চাকরির সুযোগ তৈরি করছে।চাহিদাসম্পন্ন পদসমূহ:
- সিভিল ইঞ্জিনিয়ার: অবকাঠামো নকশা এবং নির্মাণ
- প্রজেক্ট ম্যানেজার: কনস্ট্রাকশন প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট
- মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার: যন্ত্রপাতি ডিজাইন এবং রক্ষণাবেক্ষণ
- ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার: বৈদ্যুতিক সিস্টেম
- রাজমিস্ত্রি ও দক্ষ শ্রমিক: রড বাইন্ডার, ওয়েল্ডার, প্লাম্বার
বেতন কাঠামো:
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের মাসিক বেতন ৮,০০০ থেকে ২০,০০০ রিয়াল। প্রজেক্ট ম্যানেজারদের বেতন ১৫,০০০ থেকে ৩৫,০০০ রিয়াল। রাজমিস্ত্রি ও দক্ষ শ্রমিকদের বেতন ১,৫০০ থেকে ৩,০০০ রিয়াল।যোগ্যতা:
ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি এবং প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। দক্ষ শ্রমিকদের জন্য BMET থেকে প্রশিক্ষণ সার্টিফিকেট থাকলে ভালো।৫. ইলেকট্রিশিয়ান ও প্লাম্বার (Electrician & Plumber)
সৌদি আরবে ইলেকট্রিশিয়ান এবং প্লাম্বারের চাহিদা সবসময়ই বেশি থাকে। আবাসিক, বাণিজ্যিক এবং শিল্প খাতে এই দক্ষ কর্মীদের প্রয়োজন হয়।বেতন কাঠামো:
অভিজ্ঞ ইলেকট্রিশিয়ানদের মাসিক বেতন ২,০০০ থেকে ৪,৫০০ রিয়াল। প্লাম্বারদের বেতন ১,৮০০ থেকে ৩,৮০০ রিয়াল।যোগ্যতা:
ট্রেড টেস্ট সার্টিফিকেট এবং কমপক্ষে ২-৩ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে ভালো।৬. হোটেল ও পর্যটন সেক্টর (Hotel & Tourism)
সৌদি আরব পর্যটন শিল্পে বিশাল বিনিয়োগ করছে। আল-উলা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য স্থান এবং কিডিয়া বিনোদন শহরের মতো প্রকল্পগুলো পর্যটন খাতে হাজার হাজার চাকরির সুযোগ তৈরি করছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে পর্যটন খাতে ৪১টি পদে সৌদিকরণ (Saudization) শুরু হবে।চাহিদাসম্পন্ন পদসমূহ:
- হোটেল ম্যানেজার: হোটেল পরিচালনা
- শেফ ও কুক: রেস্তোরাঁ ও হোটেলে
- হাউসকিপিং স্টাফ: রুম পরিষ্কার এবং রক্ষণাবেক্ষণ
- ট্যুরিজম গাইড: পর্যটক গাইড সেবা
- ইভেন্ট ম্যানেজার: ইভেন্ট পরিকল্পনা ও পরিচালনা
বেতন কাঠামো:
হোটেল ম্যানেজারদের বেতন ৮,০০০ থেকে ২০,০০০ রিয়াল। শেফদের বেতন ৩,০০০ থেকে ৮,০০০ রিয়াল। হাউসকিপিং স্টাফদের বেতন ১,২০০ থেকে ২,০০০ রিয়াল।৭. ক্লিনার ও গৃহকর্মী (Cleaner & Domestic Worker)
ক্লিনার এবং গৃহকর্মীর চাহিদা সৌদি আরবে সবসময়ই থাকে। বিশেষ করে রেস্তোরাঁ, হোটেল, অফিস, মসজিদ এবং বাসাবাড়িতে।বেতন কাঠামো:
অফিস ক্লিনারদের বেতন ১,২০০ থেকে ১,৫০০ রিয়াল। মসজিদ ক্লিনারদের বেতন ১,০০০ থেকে ১,৩০০ রিয়াল। হাসপাতাল ক্লিনারদের বেতন ১,৩০০ থেকে ১,৫০০ রিয়াল। গৃহকর্মীদের বেতন ৮০০ থেকে ১,২০০ রিয়াল। তবে ফ্রি ভিসায় গেলে একাধিক বাসা বা প্রতিষ্ঠানে কাজ করে মাসে ২,০০০ থেকে ২,২০০ রিয়াল পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।৮. নবায়নযোগ্য শক্তি সেক্টর (Renewable Energy)
সৌদি আরব নবায়নযোগ্য শক্তিতে বিশাল বিনিয়োগ করছে। NEOM শহরটি সম্পূর্ণভাবে নবায়নযোগ্য শক্তি দ্বারা পরিচালিত হবে। সৌর এবং বায়ু শক্তি প্রকল্পে বিশেষজ্ঞদের চাহিদা বাড়ছে।চাহিদাসম্পন্ন পদসমূহ:
- রিনিউয়েবল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ার: সৌর ও বায়ু শক্তি প্রকল্প
- সাস্টেইনেবিলিটি কনসালটেন্ট: পরিবেশ সংক্রান্ত পরামর্শ
- এনভায়রনমেন্টাল কমপ্লায়েন্স অফিসার: পরিবেশগত মান নিশ্চিতকরণ
বেতন কাঠামো:
নবায়নযোগ্য শক্তি বিশেষজ্ঞদের বেতন ১০,০০০ থেকে ৩০,০০০ রিয়াল পর্যন্ত হতে পারে।৯. লজিস্টিকস ও সাপ্লাই চেইন (Logistics & Supply Chain)
সৌদি আরবের ই-কমার্স বিস্ফোরণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কারণে লজিস্টিকস সেক্টরে বিশাল চাহিদা তৈরি হয়েছে। দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের একটি প্রধান লজিস্টিকস হাব হতে চাইছে।চাহিদাসম্পন্ন পদসমূহ:
- সাপ্লাই চেইন ম্যানেজার: সরবরাহ শৃঙ্খল পরিচালনা
- ওয়্যারহাউস সুপারভাইজার: গুদাম পরিচালনা
- লজিস্টিকস কো-অর্ডিনেটর: পণ্য সরবরাহ সমন্বয়
- ইনভেন্টরি ম্যানেজার: মজুদ পণ্য ব্যবস্থাপনা
- ডেলিভারি সুপারভাইজার: ডেলিভারি সেবা তত্ত্বাবধান
বেতন কাঠামো:
সাপ্লাই চেইন ম্যানেজারদের বেতন ১০,০০০ থেকে ২৫,০০০ রিয়াল। ওয়্যারহাউস সুপারভাইজারদের বেতন ৪,০০০ থেকে ৮,০০০ রিয়াল। লজিস্টিকস কো-অর্ডিনেটরদের বেতন ৩,৫০০ থেকে ৭,০০০ রিয়াল।যোগ্যতা:
বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, লজিস্টিকস বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ডিগ্রি এবং সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।১০. শিক্ষা সেক্টর (Education Sector)
সৌদি আরব শিক্ষা খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। আন্তর্জাতিক স্কুল এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বৃদ্ধির ফলে শিক্ষকদের চাহিদা বাড়ছে।চাহিদাসম্পন্ন পদসমূহ:
- ইংরেজি শিক্ষক: প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর
- STEM শিক্ষক: বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, গণিত
- প্রশিক্ষণ পরামর্শদাতা: বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ
- শিক্ষা পরিচালক: স্কুল ম্যানেজমেন্ট
- কারিকুলাম ডেভেলপার: পাঠ্যক্রম উন্নয়ন
বেতন কাঠামো:
আন্তর্জাতিক স্কুলের শিক্ষকদের বেতন ৮,০০০ থেকে ২০,০০০ রিয়াল। STEM শিক্ষকদের বেতন ১০,০০০ থেকে ২৫,০০০ রিয়াল। স্কুল পরিচালকদের বেতন ১৫,০০০ থেকে ৩৫,০০০ রিয়াল।যোগ্যতা:
শিক্ষা বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি, শিক্ষকতা সার্টিফিকেট এবং কমপক্ষে ২-৩ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।১১. ফ্যাক্টরি ও ম্যানুফ্যাকচারিং (Factory & Manufacturing)
সৌদি আরবে শিল্প খাত সম্প্রসারণের ফলে ফ্যাক্টরি শ্রমিক এবং ম্যানুফ্যাকচারিং বিশেষজ্ঞদের চাহিদা বাড়ছে। ম্যানুফ্যাকচারিং খাত মোট নতুন নিয়োগের ৫২% প্রতিনিধিত্ব করে।চাহিদাসম্পন্ন পদসমূহ:
- প্রোডাকশন সুপারভাইজার: উৎপাদন তত্ত্বাবধান
- কোয়ালিটি কন্ট্রোল ইন্সপেক্টর: মান নিয়ন্ত্রণ
- মেশিন অপারেটর: যন্ত্র পরিচালনা
- মেইনটেনেন্স টেকনিশিয়ান: যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ
- ওয়্যারহাউস অপারেটর: গুদাম পরিচালনা
বেতন কাঠামো:
ফ্যাক্টরি শ্রমিকদের বেতন ১,০০০ থেকে ১,৪০০ রিয়াল। প্রোডাকশন সুপারভাইজারদের বেতন ৪,০০০ থেকে ৮,০০০ রিয়াল। কোয়ালিটি কন্ট্রোল ইন্সপেক্টরদের বেতন ৩,৫০০ থেকে ৬,৫০০ রিয়াল।১২. ফিনান্স ও অ্যাকাউন্টিং (Finance & Accounting)
সৌদি আরবের আর্থিক খাত দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। ফিনটেক কোম্পানি এবং ব্যাংকগুলো দক্ষ আর্থিক পেশাদার খুঁজছে।চাহিদাসম্পন্ন পদসমূহ:
- ফিন্যান্সিয়াল এনালিস্ট: আর্থিক বিশ্লেষণ
- অ্যাকাউন্ট্যান্ট: হিসাব রক্ষণ
- অডিটর: আর্থিক নিরীক্ষা
- ট্যাক্স কনসালটেন্ট: কর পরামর্শ (VAT)
- ইনভেস্টমেন্ট অ্যানালিস্ট: বিনিয়োগ বিশ্লেষণ
বেতন কাঠামো:
ফিন্যান্সিয়াল এনালিস্টদের বেতন ৮,০০০ থেকে ২০,০০০ রিয়াল। অ্যাকাউন্ট্যান্টদের বেতন ৫,০০০ থেকে ১২,০০০ রিয়াল। সিনিয়র ফিন্যান্স ম্যানেজারদের বেতন ১৮,০০০ থেকে ৪০,০০০ রিয়াল।যোগ্যতা:
অ্যাকাউন্টিং বা ফিন্যান্সে স্নাতক ডিগ্রি, CPA বা ACCA সার্টিফিকেশন এবং প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।১৩. সিকিউরিটি গার্ড ও নিরাপত্তা সেবা (Security Services)
বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকায় নিরাপত্তা গার্ডের চাহিদা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষত মেগা প্রজেক্টগুলোতে প্রচুর সিকিউরিটি গার্ড প্রয়োজন।বেতন কাঠামো:
সিকিউরিটি গার্ডদের মাসিক বেতন ১,৫০০ থেকে ২,৮০০ রিয়াল। সিকিউরিটি সুপারভাইজারদের বেতন ৩,০০০ থেকে ৫,৫০০ রিয়াল।যোগ্যতা:
শারীরিকভাবে সুস্থ, মৌলিক নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ এবং পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকলে ভালো।বিভিন্ন পেশার বিস্তারিত বিবরণ
স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারদের জন্য বিশেষ তথ্য
ডাক্তারদের জন্য:
সৌদি আরবে ডাক্তার হিসেবে কাজ করতে হলে SCFHS (Saudi Commission for Health Specialties) থেকে লাইসেন্স নিতে হয়। প্রথমে MBBS ডিগ্রির সমতুল্যতা যাচাই করতে হয়। এরপর SMLE (Saudi Medical Licensing Exam) পাস করতে হয়। পরীক্ষায় বসার জন্য ইন্টার্নশিপ সার্টিফিকেট লাগে। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের জন্য অতিরিক্ত পরীক্ষা দিতে হয়। প্রসেসিং সময় ৬-১২ মাস লাগতে পারে। লাইসেন্স ফি প্রায় ৩,০০০-৫,০০০ রিয়াল। বিশেষজ্ঞতার চাহিদা অনুযায়ী বেতন:- জেনারেল প্র্যাক্টিশনার: ১৫,০০০-২২,০০০ রিয়াল
- কার্ডিওলজিস্ট: ২৫,০০০-৪০,০০০ রিয়াল
- অর্থোপেডিক সার্জন: ২৮,০০০-৪৫,০০০ রিয়াল
- পেডিয়াট্রিশিয়ান: ২০,০০০-৩৫,০০০ রিয়াল
- রেডিওলজিস্ট: ২২,০০০-৩৮,০০০ রিয়াল
- অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট: ২৫,০০০-৪২,০০০ রিয়াল
নার্সদের জন্য:
নার্সিং ডিগ্রি (BSc Nursing বা Diploma in Nursing) থাকতে হবে। SCFHS থেকে Nursing License নিতে হবে। Prometric পরীক্ষা পাস করতে হবে (প্রশ্ন ইংরেজিতে হয়)। কমপক্ষে ২ বছরের হাসপাতাল অভিজ্ঞতা থাকলে ভালো। লাইসেন্স প্রসেসিং খরচ ২,০০০-৩,৫০০ রিয়াল। নার্সিং পজিশন অনুযায়ী বেতন:- স্টাফ নার্স: ৪,০০০-৭,০০০ রিয়াল
- সিনিয়র নার্স: ৬,০০০-৯,০০০ রিয়াল
- হেড নার্স: ৮,০০০-১২,০০০ রিয়াল
- নার্স সুপারভাইজার: ১০,০০০-১৫,০০০ রিয়াল
- ICU নার্স: ৬,৫০০-১০,০০০ রিয়াল
- OT নার্স: ৬,০০০-৯,৫০০ রিয়াল
মেডিকেল টেকনিশিয়ানদের জন্য:
রেডিওলজি টেকনিশিয়ান, ল্যাব টেকনিশিয়ান, ফার্মেসি টেকনিশিয়ানদের বিশাল চাহিদা। প্রাসঙ্গিক ডিপ্লোমা বা ডিগ্রি প্রয়োজন। SCFHS লাইসেন্স বাধ্যতামূলক। বেতন ৩,৫০০-৮,০০০ রিয়াল পর্যন্ত।তথ্য প্রযুক্তি পেশাদারদের জন্য বিশেষ তথ্য
সফটওয়্যার ডেভেলপারদের জন্য:
জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ভাষা যেগুলোর চাহিদা বেশি:- Python – ডেটা সায়েন্স এবং এআই প্রজেক্টের জন্য
- JavaScript/TypeScript – ওয়েব ডেভেলপমেন্টের জন্য
- Java – এন্টারপ্রাইজ অ্যাপ্লিকেশনের জন্য
- C++ – সিস্টেম সফটওয়্যারের জন্য
- Swift/Kotlin – মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্টের জন্য
- SQL – ডাটাবেস ম্যানেজমেন্টের জন্য
- জুনিয়র ডেভেলপার (০-২ বছর অভিজ্ঞতা): ৮,০০০-১২,০০০ রিয়াল
- মিড-লেভেল ডেভেলপার (২-৫ বছর): ১২,০০০-১৮,০০০ রিয়াল
- সিনিয়র ডেভেলপার (৫+ বছর): ১৮,০০০-২৫,০০০ রিয়াল
- লিড ডেভেলপার/টেক লিড: ২২,০০০-৩২,০০০ রিয়াল
- সফটওয়্যার আর্কিটেক্ট: ২৮,০০০-৪০,০০০ রিয়াল
সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্টদের জন্য:
সৌদি আরবে সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞদের অত্যন্ত চাহিদা। সরকারি এবং বেসরকারি উভয় খাতে নিয়োগ হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেশন: CEH (Certified Ethical Hacker), CISSP (Certified Information Systems Security Professional), CompTIA Security+, CISM (Certified Information Security Manager)। বেতন ১৮,০০০-৩০,০০০ রিয়াল বা তার বেশি।ডেটা সায়েন্টিস্ট এবং AI এক্সপার্টদের জন্য:
ডেটা সায়েন্স এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সৌদির ভবিষ্যৎ। স্মার্ট সিটি প্রজেক্টগুলোতে প্রচুর চাকরি। প্রয়োজনীয় দক্ষতা: Machine Learning, Deep Learning, NLP, Computer Vision, Big Data Analytics। Python, R, TensorFlow, PyTorch এ দক্ষতা। বেতন ২০,০০০-৩৫,০০০ রিয়াল বা আরও বেশি।ড্রাইভিং পেশার বিস্তারিত তথ্য
ড্রাইভার হওয়ার যোগ্যতা:
- বয়স কমপক্ষে ২৩ বছর এবং সর্বোচ্চ ৫০ বছর
- বৈধ বাংলাদেশী ড্রাইভিং লাইসেন্স (কমপক্ষে ৩ বছরের)
- ভালো ড্রাইভিং রেকর্ড (কোনো বড় দুর্ঘটনা নেই)
- মৌলিক আরবি বা ইংরেজি ভাষা বোঝার ক্ষমতা
- শারীরিকভাবে সুস্থ এবং দৃষ্টিশক্তি ভালো
সৌদি ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়া:
সৌদিতে পৌঁছানোর পর আপনার বাংলাদেশী লাইসেন্স দিয়ে সৌদি ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে হবে। কম্পিউটার টেস্ট দিতে হয় (আরবি বা ইংরেজিতে)। প্র্যাক্টিকাল ড্রাইভিং টেস্ট দিতে হয় (পার্কিং, রিভার্স, রোড টেস্ট)। মোট খরচ প্রায় ৪০০-৬০০ রিয়াল। লাইসেন্স পেতে ১-২ সপ্তাহ লাগে।ড্রাইভারদের কাজের শর্ত:
দৈনিক ৮-১০ ঘণ্টা কাজ (প্রাইভেট ড্রাইভারের ক্ষেত্রে)। কোম্পানি ড্রাইভারদের ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত ডিউটি থাকতে পারে। সাপ্তাহিক ছুটি ১ দিন (সাধারণত শুক্রবার)। বাসস্থান এবং খাবার অনেক সময় কোম্পানি দেয়। বার্ষিক ছুটি ৩০ দিন। মেডিকেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি দেয়।ড্রাইভিং পেশার সুবিধা-অসুবিধা:
সুবিধা: শারীরিক পরিশ্রম কম। এসি গাড়িতে কাজ। নিয়মিত বেতন। ওভারটাইমের সুযোগ। টিপস পাওয়ার সুযোগ (প্রাইভেট ড্রাইভার)। অসুবিধা: লম্বা ডিউটি আওয়ার। ট্রাফিক জ্যামে সময় কাটানো। দুর্ঘটনার ঝুঁকি। নিয়োগকর্তার উপর অনেক নির্ভরশীলতা।কনস্ট্রাকশন সেক্টরের বিস্তারিত তথ্য
মেগা প্রজেক্টসমূহ যেখানে চাকরির সুযোগ:
১. NEOM প্রজেক্ট: ৫০০ বিলিয়ন ডলারের মেগা প্রজেক্ট। ২৬,৫০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় ভবিষ্যৎ শহর। ১০০% নবায়নযোগ্য শক্তিতে চলবে। হাজার হাজার ইঞ্জিনিয়ার, আর্কিটেক্ট, কনস্ট্রাকশন ওয়ার্কার প্রয়োজন। বেতন সাধারণত ১৫-২০% বেশি। ২. The Line: ১৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ লিনিয়ার সিটি। ৯ মিলিয়ন মানুষের বসবাসের ক্ষমতা। বিশ্বের প্রথম কার্বন-নিউট্রাল শহর। কনস্ট্রাকশন, ইঞ্জিনিয়ারিং, টেকনোলজি সব সেক্টরে চাকরি। ৩. Qiddiya (কিডিয়া): বিনোদন শহর। Six Flags থিম পার্ক, ওয়াটার পার্ক, স্পোর্টস ফ্যাসিলিটি। ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পন্ন হবে। হোটেল, রেস্তোরাঁ, বিনোদন সেক্টরে প্রচুর চাকরি। ৪. Red Sea Project: বিলাসবহুল রিসোর্ট প্রজেক্ট। ৫০+ দ্বীপে হোটেল এবং রিসোর্ট। পর্যটন এবং হসপিটালিটি সেক্টরে বিশাল সুযোগ।কনস্ট্রাকশন ওয়ার্কারদের জন্য:
প্রয়োজনীয় দক্ষতা: রড বাইন্ডিং, শাটারিং, প্লাস্টারিং, টাইলিং, পেইন্টিং, ইলেকট্রিক্যাল ওয়ার্ক, প্লাম্বিং, ওয়েল্ডিং। BMET থেকে ট্রেড টেস্ট সার্টিফিকেট নিলে বেতন বেশি পাওয়া যায়। পজিশন অনুযায়ী বেতন:- সাধারণ কনস্ট্রাকশন লেবার: ১,০০০-১,৫০০ রিয়াল
- রড বাইন্ডার: ১,৮০০-২,৮০০ রিয়াল
- ম্যাসন (রাজমিস্ত্রি): ২,০০০-৩,৫০০ রিয়াল
- টাইল ফিক্সার: ২,২০০-৩,৮০০ রিয়াল
- পেইন্টার: ১,৮০০-৩,০০০ রিয়াল
- শাটারিং কার্পেন্টার: ২,৫০০-৪,০০০ রিয়াল
- স্টিল ফিক্সার: ২,৮০০-৪,৫০০ রিয়াল
কনস্ট্রাকশন সেক্টরে কাজের শর্ত:
দৈনিক ৮-১০ ঘণ্টা কাজ (গরমের সময় কম ঘণ্টা)। গ্রীষ্মকালে দুপুর ১২টা-৩টা পর্যন্ত বিরতি (অত্যধিক গরমের কারণে)। কোম্পানি বাসস্থান (শেয়ারড রুম) এবং খাবার দেয়। মেডিকেল সুবিধা এবং কাজের সময় ইনজুরি ইন্স্যুরেন্স থাকে। পিপিই (Personal Protective Equipment) কোম্পানি সরবরাহ করে। বার্ষিক ছুটি ৩০ দিন এবং দেশে যাওয়ার টিকেট।হোটেল ও রেস্তোরাঁ সেক্টরের বিস্তারিত
শেফ এবং কুকদের জন্য:
বিভিন্ন ধরনের রান্নার দক্ষতার চাহিদা: আরবি কুজিন (কাবসা, মান্দি, শাওয়ারমা ইত্যাদি), ভারতীয়/বাংলাদেশী কুজিন (বিরিয়ানি, কারি ইত্যাদি), কন্টিনেন্টাল এবং ইন্টারন্যাশনাল কুজিন, বেকারি এবং পেস্ট্রি। পজিশন অনুযায়ী বেতন:- কমি শেফ: ২,০০০-৩,৫০০ রিয়াল
- শেফ ডি পার্টি: ৩,০০০-৫,০০০ রিয়াল
- সু শেফ: ৪,৫০০-৭,০০০ রিয়াল
- এক্সিকিউটিভ শেফ: ৬,০০০-১২,০০০ রিয়াল
- সাধারণ কুক: ১,৫০০-২,৮০০ রিয়াল
ওয়েটার এবং সার্ভিস স্টাফদের জন্য:
ভালো কমিউনিকেশন স্কিল প্রয়োজন (আরবি বা ইংরেজি)। কাস্টমার সার্ভিস ট্রেনিং থাকলে ভালো। বেতন: ১,৫০০-২,৮০০ রিয়াল। টিপস পাওয়ার সুযোগ আছে যা মাসে ৫০০-১,০০০ রিয়াল হতে পারে।হাউসকিপিং স্টাফদের জন্য:
হোটেল রুম ক্লিনিং, লন্ড্রি সার্ভিস, বেডমেকিং ইত্যাদি কাজ। শিফট ডিউটি (সকাল, বিকাল, রাত)। বেতন: ১,২০০-২,০০০ রিয়াল। বড় হোটেলে সুপারভাইজার পদে প্রমোশনের সুযোগ।ভিসা প্রসেসিং খরচ ও সময়
ভিসার খরচ:
২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে কাজের ভিসার জন্য মোট খরচ ৪,০০,০০০ থেকে ৭,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এই খরচের মধ্যে রয়েছে:- ভিসা ফি: ৪৫,০০০ থেকে ৮০,০০০ টাকা
- এজেন্সি চার্জ: ৫০,০০০ থেকে ১,৫০,০০০ টাকা
- মেডিকেল টেস্ট: ১০,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা
- BMET রেজিস্ট্রেশন: ৬,০০০ টাকা
- বিমান টিকেট: ৪০,০০০ থেকে ৬০,০০০ টাকা
- অন্যান্য খরচ: ২০,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকা
ফ্রি ভিসার খরচ:
ফ্রি ভিসা বা আমেল আইডি ভিসার খরচ ৫,০০,০০০ থেকে ৮,০০,০০০ টাকা। তবে এই ভিসায় গিয়ে নিজেকে কাজ খুঁজে নিতে হয় এবং আকামা তৈরি করতে ৯,০০০ থেকে ১৫,০০০ রিয়াল খরচ হয়।ভিসা প্রসেসিং সময়:
সাধারণত সৌদি ভিসা প্রসেসিং হতে ৭ থেকে ১৫ দিন সময় লাগে। তবে মেডিকেল টেস্ট এবং ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশনে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে।সৌদি আরবে যাওয়ার যোগ্যতা ও বয়সসীমা
সাধারণ যোগ্যতা:
- বয়স কমপক্ষে ২১ বছর এবং সর্বোচ্চ ৫৫ বছর (কাজের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে)
- বৈধ পাসপোর্ট যার মেয়াদ কমপক্ষে ৬ মাস বাকি থাকতে হবে
- মেডিকেল ফিটনেস সার্টিফিকেট
- পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট
- BMET থেকে ক্লিয়ারেন্স কার্ড
- প্রাসঙ্গিক কাজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা
দক্ষ পেশার জন্য অতিরিক্ত যোগ্যতা:
- প্রাসঙ্গিক শিক্ষাগত যোগ্যতা (ডিগ্রি, ডিপ্লোমা)
- পেশাদার সার্টিফিকেশন (ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইটি পেশাদারদের জন্য)
- ট্রেড টেস্ট সার্টিফিকেট (দক্ষ শ্রমিকদের জন্য)
- ইংরেজি বা আরবি ভাষায় মৌলিক দক্ষতা
ভিসা প্রতারণা থেকে সাবধান
সৌদি আরবে যাওয়ার সময় প্রতারণার শিকার না হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচের বিষয়গুলো মনে রাখবেন:- শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি ব্যবহার করুন
- অতিরিক্ত অর্থ দাবি করে এমন দালাল এড়িয়ে চলুন
- ভিসা আসল কি নকল তা পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে অনলাইনে যাচাই করুন
- কাজের চুক্তিপত্র ভালোভাবে পড়ে বুঝে স্বাক্ষর করুন
- নিয়োগকর্তার সম্পর্কে তথ্য যাচাই করুন
সৌদি আরবে কাজের সুবিধা
- করমুক্ত আয়: সৌদি আরবে কোনো আয়কর নেই
- বাসস্থান ভাতা: অনেক কোম্পানি বাসস্থান সুবিধা প্রদান করে
- স্বাস্থ্য বীমা: বেসরকারি খাতের সকল কর্মীর জন্য বাধ্যতামূলক
- বার্ষিক ছুটি: সাধারণত ৩০ দিন বেতন সহ ছুটি
- পরিবহন ভাতা: অনেক কোম্পানি পরিবহন সুবিধা দেয়
- বিমান টিকেট: বছরে একবার দেশে যাওয়ার টিকেট
২০২৫-২০২৬ সালের বিশেষ ট্রেন্ড
মহিলা কর্মীদের জন্য সুযোগ:
সৌদি আরবে মহিলা কর্মীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে ৩৬% কর্মশক্তি মহিলা। নার্সিং, শিক্ষকতা, প্রশাসনিক কাজ এবং খুচরা বিক্রয় খাতে মহিলাদের জন্য সুযোগ বাড়ছে।সৌদিকরণ নীতি:
নিতাকাত (Nitaqat) প্রোগ্রামের আওতায় সৌদি নাগরিকদের চাকরিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তবে দক্ষ বিদেশী পেশাদারদের জন্য এখনও প্রচুর সুযোগ রয়েছে, বিশেষত স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি এবং ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে।দূরবর্তী কাজ ও ফ্রিল্যান্সিং:
ডিজিটাল যুগে সৌদি আরবেও দূরবর্তী কাজ এবং ফ্রিল্যান্সিং এর সুযোগ বাড়ছে। বিশেষত আইটি, ডিজাইন এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েশন খাতে।সৌদি আরবে বিভিন্ন ভিসা ক্যাটাগরির তুলনা
কোম্পানি ভিসা বনাম ফ্রি ভিসা
সৌদি আরবে যাওয়ার সময় দুই ধরনের প্রধান ভিসা রয়েছে – কোম্পানি ভিসা এবং ফ্রি ভিসা। দুটির মধ্যে পার্থক্য বোঝা গুরুত্বপূর্ণ।কোম্পানি ভিসার সুবিধা:
- নির্দিষ্ট চাকরি নিশ্চিত থাকে
- নিয়োগকর্তা আকামা তৈরি করে দেন
- বাসস্থান ও অন্যান্য সুবিধা পাওয়া যায়
- চাকরি নিরাপত্তা বেশি
- আইনি সমস্যা কম হয়
ফ্রি ভিসার (আমেল আইডি) বৈশিষ্ট্য:
- কাজের স্বাধীনতা বেশি – একাধিক কাজ করা যায়
- আয়ের সম্ভাবনা বেশি
- নিজে কাজ খুঁজে নিতে হয়
- আকামা তৈরি করতে নিজেকে খরচ করতে হয় (৯,০০০-১৫,০০০ রিয়াল)
- প্রাথমিক অনিশ্চয়তা বেশি
বিভিন্ন পেশার ভিসা তুলনা টেবিল:
| পেশা | চাহিদা লেভেল | মাসিক বেতন (রিয়াল) | প্রয়োজনীয় যোগ্যতা | ভিসা খরচ (টাকা) |
|---|---|---|---|---|
| ডাক্তার | অতি উচ্চ | ১৫,০০০-৩৫,০০০ | MBBS + লাইসেন্স | ৫,০০,০০০-৮,০০,০০০ |
| নার্স | অতি উচ্চ | ৪,০০০-১২,০০০ | নার্সিং ডিগ্রি + লাইসেন্স | ৪,০০,০০০-৬,০০,০০০ |
| সফটওয়্যার ডেভেলপার | অতি উচ্চ | ৮,০০০-২৫,০০০ | CS ডিগ্রি + প্রজেক্ট অভিজ্ঞতা | ৪,৫০,০০০-৭,০০,০০০ |
| ড্রাইভার | উচ্চ | ১,২০০-২,৫০০ | ড্রাইভিং লাইসেন্স | ৩,০০,০০০-৪,৫০,০০০ |
| ইলেকট্রিশিয়ান | উচ্চ | ২,০০০-৪,৫০০ | ট্রেড টেস্ট + অভিজ্ঞতা | ৩,৫০,০০০-৫,০০,০০০ |
| প্লাম্বার | উচ্চ | ১,৮০০-৩,৮০০ | ট্রেড টেস্ট + অভিজ্ঞতা | ৩,৫০,০০০-৫,০০,০০০ |
| সিভিল ইঞ্জিনিয়ার | মধ্যম-উচ্চ | ৮,০০০-২০,০০০ | ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি | ৫,০০,০০০-৭,০০,০০০ |
| ক্লিনার | মধ্যম | ৮০০-১,৫০০ | কোনো বিশেষ যোগ্যতা নেই | ২,৫০,০০০-৩,৫০,০০০ |
| হোটেল স্টাফ | মধ্যম-উচ্চ | ১,৫০০-৮,০০০ | হসপিটালিটি ট্রেনিং | ৩,৫০,০০০-৫,৫০,০০০ |
| ফ্যাক্টরি ওয়ার্কার | মধ্যম | ১,০০০-১,৪০০ | মৌলিক শারীরিক সামর্থ্য | ৩,০০,০০০-৪,০০,০০০ |
প্রতি মাসে কত টাকা সঞ্চয় করা সম্ভব?
সৌদি আরবে কাজ করে প্রকৃতপক্ষে কত টাকা সঞ্চয় করা যায় তা নির্ভর করে বেতন, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ব্যক্তিগত খরচের উপর।মাসিক খরচের হিসাব:
যদি কোম্পানি বাসস্থান দেয়:
- খাবার খরচ: ৩০০-৬০০ রিয়াল
- মোবাইল ও ইন্টারনেট: ৫০-১০০ রিয়াল
- ব্যক্তিগত খরচ: ১০০-২০০ রিয়াল
- মোট মাসিক খরচ: ৪৫০-৯০০ রিয়াল
যদি নিজে বাসা ভাড়া নিতে হয়:
- শেয়ারড রুম ভাড়া: ৪০০-৮০০ রিয়াল
- খাবার খরচ: ৩০০-৬০০ রিয়াল
- ইউটিলিটি (বিদ্যুৎ, পানি): ১০০-২০০ রিয়াল
- মোবাইল ও ইন্টারনেট: ৫০-১০০ রিয়াল
- পরিবহন: ১০০-২০০ রিয়াল
- মোট মাসিক খরচ: ৯৫০-১,৯০০ রিয়াল
বিভিন্ন পেশায় সঞ্চয়ের উদাহরণ:
১. ড্রাইভার (বেতন ১,৫০০ রিয়াল):
যদি কোম্পানি বাসস্থান দেয়: মাসিক সঞ্চয় ৬০০-১,০৫০ রিয়াল (১৩,৭৩৪-২৪,০৩৫ টাকা) যদি নিজে বাসা ভাড়া করতে হয়: মাসিক সঞ্চয় ০-৫৫০ রিয়াল (০-১২,৫৮৯ টাকা)২. নার্স (বেতন ৬,০০০ রিয়াল):
যদি কোম্পানি বাসস্থান দেয়: মাসিক সঞ্চয় ৫,১০০-৫,৫৫০ রিয়াল (১,১৬,৭৩৯-১,২৭,০০৩ টাকা) যদি নিজে বাসা ভাড়া করতে হয়: মাসিক সঞ্চয় ৪,১০০-৫,০৫০ রিয়াল (৯৩,৮৫০-১,১৫,৫৯৫ টাকা)৩. সফটওয়্যার ডেভেলপার (বেতন ১৫,০০০ রিয়াল):
যদি কোম্পানি বাসস্থান দেয়: মাসিক সঞ্চয় ১৪,১০০-১৪,৫৫০ রিয়াল (৩,২২,৬৯৫-৩,৩২,৯৯৮ টাকা) যদি নিজে বাসা ভাড়া করতে হয়: মাসিক সঞ্চয় ১৩,১০০-১৪,০৫০ রিয়াল (২,৯৯,৮৬১-৩,২১,৫৫১ টাকা) নোট: এই হিসাবগুলো আনুমানিক। প্রকৃত সঞ্চয় ব্যক্তিগত জীবনযাত্রা এবং শহরের উপর নির্ভর করে। রিয়াদ ও জেদ্দার মতো বড় শহরে খরচ বেশি।সৌদি আরবে কাজ করার টিপস ও পরামর্শ
১. ভাষা শিখুন:
আরবি ভাষার মৌলিক জ্ঞান থাকলে কাজ পেতে এবং চাকরিতে উন্নতি করতে সুবিধা হয়। বিনামূল্যে Duolingo অ্যাপ ব্যবহার করে আরবি শিখতে পারেন। ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা থাকলে আরও ভালো।২. দক্ষতা বৃদ্ধি করুন:
যাওয়ার আগে BMET বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নিন। অনলাইন কোর্স করে নিজের দক্ষতা বাড়ান। সার্টিফিকেশন থাকলে বেতন আলোচনায় সুবিধা পাবেন।৩. সাংস্কৃতিক সচেতনতা:
সৌদি আরবের ইসলামিক সংস্কৃতি এবং আইন-কানুন মেনে চলুন। ড্রেস কোড, নামাজের সময়, রমজান মাসের নিয়ম ইত্যাদি সম্পর্কে জানুন।৪. আর্থিক পরিকল্পনা:
মাসিক একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা সঞ্চয় করার লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়িয়ে চলুন। দেশে নিয়মিত টাকা পাঠান।৫. নেটওয়ার্কিং:
সৌদিতে অন্য বাংলাদেশীদের সাথে যোগাযোগ রাখুন। তারা চাকরি খোঁজা এবং সমস্যা সমাধানে সাহায্য করতে পারেন।৬. স্বাস্থ্য সচেতনতা:
হেলথ ইন্স্যুরেন্স কার্ড সবসময় সাথে রাখুন। নিয়মিত চেকআপ করান। গরম আবহাওয়ায় পর্যাপ্ত পানি পান করুন।৭. আইনি বিষয়:
আকামা (রেসিডেন্স পারমিট) সবসময় নবায়ন রাখুন। ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলুন। কোনো আইনি সমস্যা হলে বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করুন।২০২৬ সালের প্রত্যাশিত পরিবর্তন
পর্যটন খাতে সৌদিকরণ:
২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে পর্যটন খাতে ৪১টি পদে সৌদিকরণ কার্যকর হবে। এর অর্থ হলো এই পদগুলোতে শুধুমাত্র সৌদি নাগরিকদের নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে, ম্যানেজমেন্ট এবং বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে বিদেশীদের এখনও সুযোগ থাকবে।ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন:
সৌদি আরব দ্রুত ডিজিটাল অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হচ্ছে। স্মার্ট সিটি প্রজেক্ট, এআই ইন্টিগ্রেশন এবং অটোমেশন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে টেক দক্ষতা সম্পন্ন কর্মীদের চাহিদা আরও বাড়বে।রিমোট ওয়ার্ক সুযোগ:
কোভিডের পর থেকে রিমোট ওয়ার্ক এবং হাইব্রিড মডেল জনপ্রিয় হয়েছে। ২০২৬ সালে আরও কোম্পানি এই মডেল গ্রহণ করবে, বিশেষত আইটি এবং ফিন্যান্স সেক্টরে।মহিলা কর্মীদের বৃদ্ধি:
সরকার মহিলাদের কর্মশক্তিতে অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য নীতি প্রণয়ন করছে। ২০২৬ সালে মহিলা কর্মীদের অংশগ্রহণ ৪০% ছাড়িয়ে যেতে পারে।সৌদি আরব বনাম অন্যান্য মধ্যপ্রাচ্য দেশের তুলনা
সৌদি আরব বনাম UAE:
বেতন: UAE তে সাধারণত বেতন কিছুটা বেশি, কিন্তু জীবনযাত্রার খরচও বেশি। কাজের সুযোগ: সৌদিতে ভিশন ২০৩০ এর কারণে নতুন সেক্টরে সুযোগ বেশি। জীবনযাত্রা: UAE বেশি উদার, সৌদি রক্ষণশীল।সৌদি আরব বনাম কুয়েত:
বেতন: কুয়েতে কিছু পেশায় বেতন বেশি হতে পারে। চাকরির বাজার: সৌদিতে চাকরির সুযোগ অনেক বেশি। সঞ্চয়: উভয় দেশেই করমুক্ত, তবে সৌদিতে খরচ তুলনামূলক কম।সৌদি আরব বনাম কাতার:
বেতন: কাতারে গড় বেতন সর্বোচ্চ। কাজের সুযোগ: সৌদিতে বৈচিত্র্যময় সেক্টরে সুযোগ। দীর্ঘমেয়াদী সম্ভাবনা: সৌদির ভিশন ২০৩০ দীর্ঘমেয়াদী কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দেয়।সৌদি আরবে কাজ করার সময় যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন
১. প্রতারক এজেন্সির ফাঁদে পড়া:
অতিরিক্ত অর্থ দাবি করে এমন এজেন্সি এড়িয়ে চলুন। শুধুমাত্র BMET অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি ব্যবহার করুন।২. চুক্তিপত্র না পড়ে স্বাক্ষর:
কাজের চুক্তি, বেতন, সুবিধা ইত্যাদি ভালোভাবে পড়ে বুঝে তারপর স্বাক্ষর করুন। সম্ভব হলে বাংলা অনুবাদ চেয়ে নিন।৩. দক্ষতা ছাড়া যাওয়া:
বিশেষত ফ্রি ভিসায় যাওয়ার ক্ষেত্রে, কোনো দক্ষতা ছাড়া গেলে কাজ পেতে সমস্যা হতে পারে। কনস্ট্রাকশন, ইলেকট্রিক, প্লাম্বিং ইত্যাদি শিখে যান।৪. সঞ্চয় না করা:
অনেকে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় খরচ করেন এবং সঞ্চয় করতে পারেন না। প্রথম থেকেই সঞ্চয়ের অভ্যাস করুন।৫. আইন ভঙ্গ করা:
সৌদি আইন খুবই কঠোর। ছোট ভুলেও বড় শাস্তি হতে পারে। ট্রাফিক নিয়ম, ভিসা নিয়ম, ধর্মীয় নিয়ম ইত্যাদি মেনে চলুন।৬. নিয়োগকর্তার সাথে দ্বন্দ্ব:
যতটা সম্ভব নিয়োগকর্তার সাথে ভালো সম্পর্ক রাখুন। অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে আইনি পথ অনুসরণ করুন।প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. সৌদি আরবে যেতে ন্যূনতম কত বছর বয়স লাগে?
সাধারণ শ্রমিক ভিসার জন্য ন্যূনতম বয়স ২১ বছর এবং সর্বোচ্চ ৫৫ বছর। তবে দক্ষ পেশাদারদের ক্ষেত্রে (যেমন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার) বয়সসীমা কিছুটা শিথিল হতে পারে এবং ৬০ বছর পর্যন্ত হতে পারে। ড্রাইভার ভিসার জন্য ন্যূনতম বয়স ২৩ বছর।২. সৌদি আরবে কোন ভিসা সবচেয়ে ভালো?
এটি নির্ভর করে আপনার দক্ষতা এবং লক্ষ্যের উপর। যদি আপনার কোনো বিশেষ দক্ষতা থাকে (যেমন স্বাস্থ্যসেবা, আইটি, ইঞ্জিনিয়ারিং), তাহলে কোম্পানি ভিসা সবচেয়ে ভালো কারণ এতে চাকরি নিশ্চিত থাকে এবং বেতন বেশি। যদি আপনার হাতের কাজে দক্ষতা থাকে (যেমন কনস্ট্রাকশন, ইলেকট্রিক), তাহলে ফ্রি ভিসায় গিয়ে একাধিক কাজ করে বেশি আয় করা সম্ভব। বর্তমানে ড্রাইভিং ভিসা জনপ্রিয় কারণ পরিশ্রম কম এবং চাহিদা বেশি।৩. সৌদি আরবে মাসে কত টাকা পাঠানো যায??
সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে টাকা পাঠানোর কোনো সীমা নেই। তবে ব্যাংক বা এক্সচেঞ্জ হাউস ব্যবহার করে আইনি পথে পাঠাতে হবে। জনপ্রিয় রেমিট্যান্স সার্ভিস: Al Rajhi Bank, Western Union, MoneyGram, Ria Money Transfer। সাধারণত ১০০ রিয়াল পাঠাতে ২৫-৩০ টাকা খরচ হয়। বিকাশ, নগদ বা রকেটেও সরাসরি পাঠানো যায়।৪. সৌদি আরবে আকামা তৈরি করতে কত খরচ হয়?
কোম্পানি ভিসায় গেলে নিয়োগকর্তা আকামার খরচ বহন করেন। ফ্রি ভিসায় গেলে নিজেকে আকামা তৈরি করতে ৯,০০০ থেকে ১৫,০০০ রিয়াল (২,০৫,৮৯০ থেকে ৩,৪৩,১৫০ টাকা) খরচ হয়। এছাড়া মেডিকেল টেস্ট, ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং অন্যান্য প্রসেসিং ফি মিলিয়ে মোট খরচ হতে পারে।৫. সৌদি ভিসা আসল না নকল কীভাবে চেক করবো?
অনলাইনে পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে সৌদি ভিসা যাচাই করা যায়। দুটি প্রধান ওয়েবসাইট: ১) Saudi Ministry of Foreign Affairs (www.mofa.gov.sa) ২) Enjaz Portal (www.enjazit.com.sa)। এই সাইটগুলোতে গিয়ে পাসপোর্ট নম্বর এবং জন্ম তারিখ দিয়ে ভিসার স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন। যদি ভিসা আসল হয়, তাহলে ভিসা নম্বর, মেয়াদ, নিয়োগকর্তার নাম ইত্যাদি তথ্য দেখা যাবে।৬. সৌদি আরবে ওভারটাইম বেতন কত?
সৌদি শ্রম আইন অনুযায়ী, ওভারটাইম কাজের জন্য স্বাভাবিক ঘণ্টার বেতনের ১৫০% দিতে হবে। যদি ওভারটাইম রাতে বা সরকারি ছুটির দিনে হয়, তাহলে ২০০% পর্যন্ত পেতে পারেন। তবে অনেক কোম্পানি মাসিক নির্দিষ্ট বেতনে চুক্তি করে যেখানে ওভারটাইম অন্তর্ভুক্ত থাকে।৭. সৌদি আরবে কি পরিবার নিয়ে থাকা যায়?
হ্যাঁ, তবে শর্ত আছে। আপনার মাসিক বেতন কমপক্ষে ৪,০০০ রিয়াল হতে হবে পরিবার নিয়ে যাওয়ার জন্য। স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য আলাদা ভিসা (ডিপেন্ডেন্ট ভিসা) করাতে হবে। প্রতি ডিপেন্ডেন্টের জন্য বছরে প্রায় ১,০০০-১,৫০০ রিয়াল খরচ হয় (ভিসা ও হেলথ ইন্স্যুরেন্স)।৮. সৌদি আরবে কাজ করতে করতে অন্য কোম্পানিতে চাকরি পরিবর্তন করা যায়?
হ্যাঁ, তবে নিয়োগকর্তার অনুমতি (NOC – No Objection Certificate) প্রয়োজন। নতুন শ্রম আইনে কিছু ক্ষেত্রে চুক্তি শেষ হওয়ার পর বা নির্দিষ্ট শর্তে NOC ছাড়াও চাকরি পরিবর্তন করা যায়। তবে সাধারণত চুক্তিবদ্ধ সময়ের মধ্যে চাকরি পরিবর্তন করতে নিয়োগকর্তার সম্মতি লাগে।৯. সৌদি আরবে কাজের সময় কত ঘণ্টা?
সৌদি শ্রম আইন অনুযায়ী সাধারণ কাজের সময় দৈনিক ৮ ঘণ্টা এবং সাপ্তাহিক ৪৮ ঘণ্টা। রমজান মাসে মুসলিম কর্মীদের জন্য দৈনিক ৬ ঘণ্টা। তবে কিছু পেশায় (যেমন হোটেল, হাসপাতাল, সিকিউরিটি) শিফট ডিউটির কারণে ভিন্ন হতে পারে।১০. সৌদি আরবে বছরে কতদিন ছুটি পাওয়া যায়?
এক বছর কাজ করার পর কমপক্ষে ২১ দিন এবং পাঁচ বছরের বেশি চাকরিতে থাকলে ৩০ দিন বার্ষিক ছুটি পাওয়া যায়, যা বেতনসহ। এছাড়া সৌদি জাতীয় দিবস, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার ছুটি থাকে। অসুস্থতার জন্য প্রথম ৩০ দিন পূর্ণ বেতনসহ, পরবর্তী ৬০ দিন ৭৫% বেতনসহ ছুটি পাওয়া যায়।সৌদি আরবে বিভিন্ন শহরে কাজের সুযোগ
রিয়াদ (Riyadh):
সৌদির রাজধানী এবং সবচেয়ে বড় শহর। এখানে সবধরনের পেশায় সুযোগ রয়েছে। বিশেষত সরকারি প্রকল্প, আইটি, ফিন্যান্স, হেলথকেয়ার এবং কনস্ট্রাকশন সেক্টরে প্রচুর চাকরি আছে। জীবনযাত্রার খরচ মাঝারি থেকে বেশি। বাংলাদেশী কমিউনিটি বড়।জেদ্দা (Jeddah):
বাণিজ্যিক রাজধানী এবং বন্দর শহর। ব্যবসা-বাণিজ্য, লজিস্টিকস, পর্যটন এবং হসপিটালিটি সেক্টরে বেশি সুযোগ। আবহাওয়া তুলনামূলক ভালো কারণ সমুদ্রের কাছে। জীবনযাত্রা কিছুটা উদার।দাম্মাম (Dammam):
পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের রাজধানী। তেল ও গ্যাস শিল্পের কেন্দ্র। এখানে পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ার, টেকনিশিয়ান এবং দক্ষ শ্রমিকদের চাহিদা বেশি। বেতন সাধারণত বেশি। আরামকো এবং অন্যান্য বড় তেল কোম্পানি এখানে।মক্কা (Makkah) এবং মদীনা (Madinah):
পবিত্র শহর। হোটেল, রেস্তোরাঁ, পর্যটন সেবা এবং ট্রান্সপোর্ট সেক্টরে কাজের সুযোগ বেশি। হজ্জ এবং ওমরার সময় অস্থায়ী চাকরির সুযোগও থাকে। ধর্মীয় পরিবেশ।খোবার (Khobar) এবং আল-খোবার:
দাম্মামের কাছে আধুনিক শহর। এক্সপ্যাট কমিউনিটি বড়। তেল শিল্প এবং আন্তর্জাতিক কোম্পানির অফিস। জীবনযাত্রা আরামদায়ক।NEOM, The Line, এবং নতুন শহরসমূহ:
ভবিষ্যতের মেগা প্রজেক্ট। কনস্ট্রাকশন, ইঞ্জিনিয়ারিং, টেকনোলজি, হেলথকেয়ার এবং সকল সেক্টরে হাজার হাজার চাকরি তৈরি হচ্ছে। বেতন এবং সুবিধা সবচেয়ে ভালো। নতুন এবং আধুনিক পরিবেশ।সৌদি আরবের শ্রম আইন সম্পর্কে জানা জরুরি
কর্মী অধিকার:
- লিখিত কাজের চুক্তি পাওয়ার অধিকার (আরবি ও ইংরেজি উভয়ে)
- সময়মতো বেতন পাওয়ার অধিকার (সাধারণত মাসের শেষ সপ্তাহে)
- নিরাপদ কর্মপরিবেশ পাওয়ার অধিকার
- স্বাস্থ্য বীমা পাওয়ার অধিকার
- বার্ষিক ছুটি এবং অসুস্থতার ছুটি পাওয়ার অধিকার
- চাকরি ছেড়ে দেশে ফেরার টিকেট পাওয়ার অধিকার
নিয়োগকর্তার দায়িত্ব:
- কর্মীর আকামা এবং কাজের পারমিটের খরচ বহন
- চিকিৎসা বীমা প্রদান
- নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা
- চুক্তি অনুযায়ী বেতন এবং সুবিধা প্রদান
- কর্মীর পাসপোর্ট জোরপূর্বক আটকে না রাখা (যদিও অনেক ক্ষেত্রে নিরাপত্তার জন্য রাখা হয়)
সমস্যা সমাধানের উপায়:
যদি নিয়োগকর্তার সাথে বেতন বা অন্য কোনো সমস্যা হয়, তাহলে প্রথমে সরাসরি আলোচনার চেষ্টা করুন। সমাধান না হলে:- Ministry of Human Resources and Social Development (HRSD) এ অভিযোগ করুন
- বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেট এ যোগাযোগ করুন
- শ্রম আদালতে মামলা করুন (সৌদিতে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা পাওয়া যায়)
সফল প্রবাসীদের টিপস
প্রথম ৬ মাস:
“প্রথম ৬ মাস খরচ কমিয়ে বেশি সঞ্চয় করুন। নতুন পরিবেশ বুঝতে সময় লাগে। এই সময় কাজে মনোযোগ দিন এবং নিয়োগকর্তার বিশ্বাস অর্জন করুন।” – মোঃ করিম, রিয়াদে ৮ বছরভাষা শেখা:
“আরবি ভাষা শেখা আমার ক্যারিয়ারে বড় পার্থক্য এনেছে। প্রমোশন পেয়েছি এবং বেতন দ্বিগুণ হয়েছে।” – রহিম উদ্দিন, জেদ্দায় সুপারভাইজারনেটওয়ার্কিং:
“বাংলাদেশী কমিউনিটির সাথে যুক্ত থাকুন। তারা চাকরি খুঁজতে এবং সমস্যা সমাধানে সাহায্য করবে। তবে খারাপ সঙ্গ এড়িয়ে চলুন।” – সালাম মিয়া, দাম্মামে ১০ বছরদক্ষতা বৃদ্ধি:
“ফ্রি সময়ে অনলাইন কোর্স করেছি। আইটি সার্টিফিকেশন নিয়ে ক্লিনার থেকে আইটি টেকনিশিয়ান হয়েছি। বেতন ১,২০০ থেকে ৪,৫০০ রিয়াল হয়েছে।” – কামাল হোসেন, রিয়াদউপসংহার
সৌদি আরবে কোন কাজের ভিসার চাহিদা সবচেয়ে বেশি তা নির্ভর করে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি এবং ভিশন ২০৩০ প্রকল্পের অগ্রগতির উপর। বর্তমানে ২০২৫-২০২৬ সালে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে:- স্বাস্থ্যসেবা সেক্টর – ডাক্তার, নার্স, মেডিকেল টেকনিশিয়ান
- তথ্য প্রযুক্তি – সফটওয়্যার ডেভেলপার, সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট
- ড্রাইভিং – সকল ধরনের ড্রাইভার
- ইঞ্জিনিয়ারিং – সিভিল, মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার
- দক্ষ শ্রমিক – ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, ওয়েল্ডার
সৌদি আরবে চাকরি পাওয়ার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া
ধাপ ১: নিজের দক্ষতা যাচাই করুন
প্রথমে নিজের দক্ষতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করুন। কোন সেক্টরে আপনার সবচেয়ে ভালো সুযোগ আছে তা নির্ধারণ করুন। যদি বিশেষ দক্ষতা না থাকে, তাহলে BMET বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নিন। জনপ্রিয় প্রশিক্ষণ কোর্স: ইলেকট্রিক্যাল, প্লাম্বিং, ওয়েল্ডিং, এসি টেকনিশিয়ান, অটোমোবাইল মেকানিক্স।ধাপ ২: সঠিক রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন
শুধুমাত্র BMET (Bureau of Manpower, Employment and Training) অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি ব্যবহার করুন। BMET এর ওয়েবসাইট (www.bmet.gov.bd) থেকে অনুমোদিত এজেন্সির তালিকা পাওয়া যায়। এজেন্সি নির্বাচনের আগে তাদের পূর্ববর্তী ক্লায়েন্টদের সাথে কথা বলুন। অতিরিক্ত টাকা দাবি করে এমন এজেন্সি থেকে সাবধান থাকুন।ধাপ ৩: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ
সৌদি ভিসার জন্য যে কাগজপত্র প্রয়োজন:- পাসপোর্ট: কমপক্ষে ৬ মাসের বৈধতা সহ মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট
- ছবি: সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজ ছবি
- শিক্ষাগত সার্টিফিকেট: এসএসসি, এইচএসসি বা সর্বশেষ ডিগ্রির সার্টিফিকেট
- অভিজ্ঞতা সার্টিফিকেট: পূর্ববর্তী চাকরির অভিজ্ঞতা (যদি থাকে)
- ট্রেড টেস্ট সার্টিফিকেট: দক্ষ শ্রমিকদের জন্য
- পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট: জেলা পুলিশ সুপার অফিস থেকে
- জন্ম নিবন্ধন সনদ: বয়স যাচাইয়ের জন্য
- বিবাহ সনদ: বিবাহিতদের জন্য (পরিবার নিতে চাইলে)
ধাপ ৪: মেডিকেল পরীক্ষা
সৌদি সরকার অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে। প্রধান মেডিকেল সেন্টার: Gamca (Gulf Approved Medical Centers Association) অনুমোদিত সেন্টার। ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং সিলেটে এই সেন্টার রয়েছে। মেডিকেল টেস্ট খরচ: ১০,০০০-১৫,০০০ টাকা। পরীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত: রক্ত পরীক্ষা, এক্স-রে, ইসিজি, সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা। যক্ষ্মা, হেপাটাইটিস বি/সি, এইচআইভি পজিটিভ হলে ভিসা হয় না।ধাপ ৫: BMET ক্লিয়ারেন্স
সকল প্রবাসীদের জন্য BMET ক্লিয়ারেন্স বাধ্যতামূলক। BMET রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। BMET স্মার্ট কার্ড নিতে হবে। রেজিস্ট্রেশন ফি: ৬,০০০ টাকা। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া অনলাইনে (bmet.portal.gov.bd) করা যায়। BMET থেকে ব্রিফিং নিতে হবে যেখানে বিদেশে কাজের অধিকার এবং সতর্কতা সম্পর্কে জানানো হয়।ধাপ ৬: ভিসা স্ট্যাম্পিং
ভিসা এপ্রুভ হলে সৌদি দূতাবাসে গিয়ে ভিসা স্ট্যাম্প করাতে হবে। স্ট্যাম্পিং ফি: প্রায় ৫,০০০-৮,০০০ টাকা। পাসপোর্টে ভিসা স্ট্যাম্প করতে ১-৩ দিন লাগে। ভিসার মেয়াদ সাধারণত ৩ মাস, এই সময়ের মধ্যে সৌদিতে যেতে হবে।ধাপ ৭: বিমান টিকেট ক্রয় এবং যাত্রা
ভিসা পাওয়ার পর বিমান টিকেট কিনুন। টিকেটের খরচ: ঢাকা থেকে রিয়াদ/জেদ্দা ৪০,০০০-৬০,০০০ টাকা। কিছু ক্ষেত্রে কোম্পানি টিকেটের খরচ দেয়, চুক্তিতে দেখে নিন। যাত্রার আগে যা নিতে হবে: পাসপোর্ট (ভিসা স্ট্যাম্পসহ), মেডিকেল সার্টিফিকেট কপি, BMET স্মার্ট কার্ড, নিয়োগকর্তার যোগাযোগের তথ্য, পর্যাপ্ত টাকা (কমপক্ষে ৫০০-১০০০ ডলার সমতুল্য), প্রয়োজনীয় কাপড়চোপড় এবং ওষুধপত্র।ধাপ ৮: সৌদিতে পৌঁছানোর পর
বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করুন। নিয়োগকর্তা বা তার প্রতিনিধি সাধারণত বিমানবন্দরে আসবেন। যদি না আসেন, তাহলে অবিলম্বে ফোনে যোগাযোগ করুন। প্রথম ৭-১৫ দিনের মধ্যে মেডিকেল পরীক্ষা করতে হবে (সৌদিতে পুনরায়)। আকামা (রেসিডেন্স পারমিট) তৈরি হতে ১৫-৩০ দিন লাগে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলুন এবং এটিএম কার্ড নিন। সিম কার্ড কিনুন এবং পরিবারকে জানান যে আপনি নিরাপদে পৌঁছেছেন।সৌদি আরবে জীবনযাত্রার টিপস
খাদ্য ও পানীয়:
সৌদিতে হালাল খাবার পাওয়া যায় সহজেই। ভারতীয় এবং বাংলাদেশী রেস্তোরাঁও আছে। নিজে রান্না করলে খরচ কম হয়। স্থানীয় সুপারমার্কেট: Panda, Carrefour, Lulu, Danube। সাপ্তাহিক বাজার: শুক্রবার স্থানীয় বাজারে গেলে সব্জি-ফলমূল সস্তা পাওয়া যায়। পানি: নলের পানি পান না করাই ভালো, বোতলজাত পানি কিনুন।পরিবহন:
সৌদিতে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সীমিত, তবে রিয়াদে মেট্রো চালু হয়েছে। বেশিরভাগ মানুষ ট্যাক্সি ব্যবহার করে। উবার এবং ক্যারিম (সৌদি রাইড শেয়ারিং) জনপ্রিয়। অনেকে সাইকেল বা শেয়ারড গাড়ি ব্যবহার করে। কিছু কোম্পানি কর্মীদের জন্য পরিবহন সুবিধা দেয়।বাসস্থান:
প্রথম কয়েক মাস শেয়ারড রুমে থাকুন খরচ কমাতে। শেয়ারড রুম: ৩০০-৮০০ রিয়াল/মাস। একক রুম: ১,০০০-২,০০০ রিয়াল/মাস। এপার্টমেন্ট: ২,০০০-৫,০০০ রিয়াল/মাস (এলাকা অনুযায়ী)। বাসা ভাড়া নেওয়ার সময় চুক্তিপত্র ভালো করে পড়ুন।ইন্টারনেট ও মোবাইল:
প্রধান টেলিকম অপারেটর: STC, Mobily, Zain। মাসিক প্ল্যান: ৫০-১৫০ রিয়াল (ডেটা এবং কল সহ)। ইন্টারনেট বেশ দ্রুত এবং নির্ভরযোগ্য।আবহাওয়া মোকাবেলা:
গ্রীষ্মকালে (মে-সেপ্টেম্বর) তাপমাত্রা ৪৫-৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত যায়। পর্যাপ্ত পানি পান করুন। রোদে বেশিক্ষণ থাকা এড়িয়ে চলুন। হালকা রঙের এবং ঢিলেঢালা কাপড় পরুন। শীতকালে (ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি) আবহাওয়া মনোরম, ১৫-২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।সামাজিক নিয়ম:
পোশাক: পুরুষদের জন্য হাফপ্যান্ট পাবলিক প্লেসে পরা নিষেধ। মহিলাদের জন্য আবায়া (কালো আলখাল্লা) পরা ভালো, যদিও বর্তমানে কিছুটা শিথিল। নামাজ: দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় সব দোকান বন্ধ থাকে (১৫-৩০ মিনিট)। মেলামেশা: পাবলিক প্লেসে পুরুষ এবং মহিলাদের জন্য আলাদা সেকশন থাকে। ফটোগ্রাফি: সরকারি ভবন বা মহিলাদের ছবি তোলা নিষেধ।ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: সৌদিতে থাকবেন নাকি দেশে ফিরবেন?
দীর্ঘমেয়াদী সৌদিতে থাকার পরিকল্পনা:
যদি আপনি দীর্ঘমেয়াদী সৌদিতে থাকতে চান:- উচ্চতর যোগ্যতা এবং সার্টিফিকেশন অর্জন করুন
- আরবি ভাষায় দক্ষ হন
- নেটওয়ার্কিং করুন এবং ভালো সম্পর্ক তৈরি করুন
- বেতন বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত নিয়োগকর্তার সাথে আলোচনা করুন
- দক্ষতা বৃদ্ধি করে উচ্চ পদে প্রমোশনের চেষ্টা করুন
- পরিবার নিয়ে আসার পরিকল্পনা করুন (যদি বেতন যথেষ্ট হয়)
দেশে ফিরে ব্যবসা শুরুর পরিকল্পনা:
অনেকে ৫-১০ বছর সৌদিতে কাজ করে টাকা জমিয়ে দেশে ফিরে ব্যবসা শুরু করেন। জনপ্রিয় ব্যবসার আইডিয়া:- মুদি দোকান বা সুপারশপ
- পরিবহন ব্যবসা (গাড়ি কিনে ভাড়ায় দেওয়া)
- হোটেল বা রেস্তোরাঁ
- পোশাক বা ইলেকট্রনিক্সের দোকান
- কৃষি খামার (মুরগি, গরু, মাছ চাষ)
- রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগ
- ট্রেনিং সেন্টার (যে দক্ষতা শিখেছেন তা অন্যদের শেখান)
সৌদি আরবের ভবিষ্যৎ: ২০৩০ এর পর কী হবে?
সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ প্রকল্প ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটিকে সম্পূর্ণ রূপান্তরিত করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলেছে। প্রত্যাশিত পরিবর্তন:- অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য: তেল নির্ভরতা ৫০% থেকে কমিয়ে ২০%-এ আনা হবে
- কর্মসংস্থান: ২০৩০ সালের মধ্যে বেকারত্ব ৭% এ নামিয়ে আনার লক্ষ্য
- পর্যটন: বার্ষিক ১০০ মিলিয়ন পর্যটক আকর্ষণের পরিকল্পনা
- মহিলা কর্মশক্তি: ৩০% অংশগ্রহণ বৃদ্ধির লক্ষ্য
- নতুন শহর: NEOM, The Line, Qiddiya, Red Sea Project সম্পূর্ণ হবে
- ডিজিটাল অর্থনীতি: সম্পূর্ণ ই-গভর্নমেন্ট এবং স্মার্ট সিটি
চূড়ান্ত পরামর্শ
গুরুত্বপূর্ণ টিপস:- সবসময় আপডেট তথ্য সংগ্রহ করুন কারণ নীতি ও চাহিদা পরিবর্তনশীল
- BMET এবং সরকারি ওয়েবসাইট থেকে তথ্য যাচাই করুন
- কাজের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য প্রশিক্ষণ নিন
- আরবি বা ইংরেজি ভাষা শিখে রাখুন
- সৌদি আরবের কালচার এবং আইন-কানুন সম্পর্কে জানুন
- প্রথম থেকেই সঞ্চয়ের অভ্যাস করুন
- প্রতারণা থেকে সাবধান থাকুন – যদি কিছু খুব ভালো মনে হয়, সম্ভবত সেটা সত্য নয়
- পরিবারের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন
- স্বাস্থ্যের যত্ন নিন এবং ইন্স্যুরেন্স সবসময় আপডেট রাখুন
- কোনো সমস্যা হলে লজ্জা না পেয়ে সাহায্য চান
- মেয়েরা কেন বিয়ের পর মোটা হয়?
- স্ত্রী সহবাসের দোয়া 100 Percent Best Way
- আদর্শ স্বামী স্ত্রী | যে পুরুষেরা পারফেক্ট স্বামী হয়
